Tuesday 27 January 2009

ফেরার মন

ফিরতে ইচ্ছে করে না, তবুও ফিরতেই হয়! কেউ বসে নেই অপেক্ষায় তবুও অপেক্ষায় থাকার জন্যে, যেতে না চাইলেও আবার ফিরে আসার জন্যে ফিরতেই হয় প্রথম সাক্ষাতের বিদায়বেলায় পেছন ফিরে ঘষা লেগে আবছা হয়ে যাওয়া বাসের কাঁচ ভেদ করে তাকানো! সেই দৃষ্টির উষ্ণতা পিছু নেয় অজান্তেই ভিজে যাই বৃষ্টিতে!

কানের কাছে তবু যেন অনেক দূর থেকে ভেসে আসে ‘অন্তহীন’এর গান “যাও পাখি বলো/ হাওয়া হাওয়া ছলোছলো/ আবছায়া জানলার কাঁচ!/ আমি কি আমাকে হারিয়েছি বাঁকে/ রূপকথা আনাচ কানাচ!” শ্রেয়া ঘোষালের গলা ছাপিয়ে দিদিমণির গলা ‘বলো তো ডগ কিভাবে ডাকে?’ আদুরে গলায় সপ্রতিভ উত্তর ‘ভৌ ভৌ’ জানলা দিয়ে চোখ মেলতেই কান এঁটো করা হাসিমুখে ‘মীরের পুনর্জন্ম’ টুকরো টুকরো হয়ে ভাসতে থাকে একতা হাইট্‌সের গায়ে ক্রসিং-এ লালবাতি খাওয়া গাড়িগুলো বোকা হাসি মুখে নিয়ে অপেক্ষা করে একশ কুড়ি কখন দু’টো শূন্য হবে! হঠাৎ ব্রেক চেপে দাঁড়িয়ে পড়া মোটরবাইকের ছেলেটার কাঁধ চেপে ধরে একটা হাত ভরসা খোঁজে সাইকেল এসে থমকে যায় এক ঝাঁক ছুটন্ত গাড়ির সামনে আমি কেন পারি না ওরকম একটা সাইকেল নিয়ে থেকে যেতে!

‘আর ক্যাট?’ চটপট উত্তর আসে ‘ম্যাও ম্যাও’ বারবার বেল বাজানো খালাসিকে ধমকায় ড্রাইভার সাদার্ন অ্যাভেন্যু ধরতেই দু’পাশের সবকিছু দুরন্ত বেগে পিছিয়ে যায় আরে! সেই পেট্রোল পাম্পটা না! কে যেন শুনতে পেয়ে যায় মনের উচ্ছ্বাস! ওই পাম্পটার পাশে যেতেই সে আবার লালবাতি দেখায় পকেটটা কেঁপে ওঠে, চিন্তার জাল ছিঁড়ে যায় মেসেজ! অল্প হাসি, অল্প উত্তেজনা আর অল্প ‘ইয়ে’ নিয়ে ‘show’ করি ‘Get hot babes on your mobile for free. Just call 56565. Rs. 6/min.’ হঠাৎ ভেসে আসা একটা মন ভালো করা গন্ধ খিঁচড়ে যাওয়া মনটাকে আবার ফিরিয়ে আনে লেক মার্কেট কালো চশমা পরে একটা বুড়ো গন্ধরাজের স্টিক নিয়ে বসে থাকে খদ্দেরের আশায় আশা তো আমার কাছে আছেই আমি কেন পারি না ওরকম ফুল নিয়ে থেকে যেতে!

গুটিসুটি মেরে শুয়ে থাকা কুকুরের বাচ্চাটা মাঝে মাঝে মুখ তোলে আকাশের দিকে এক মুঠো রোদ্দুরের প্রতীক্ষা বিরক্তি আর বিস্ময় নিয়ে হেলমেটহীন বাবার কাছ থেকে পুলিশের টাকা গোনা দেখে ফুটফুটে একটা মেয়ে ‘গুড বয়! আর মাউস কিভাবে ডাকে?’ টেক স্যাভি বাচ্চার রেডিমেড উত্তর ‘ক্লিক ক্লিক’! আরো বড় হলে হয়ত জানবে মাউস আরো অনেকভাবে ডাকে, শুধু শোনার কান চাই একটা বেলুন ভিড়ের মধ্যে থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে হারিয়ে যায় রাতের কালো আকাশে হঠাৎই খেয়াল হয় ‘সুগার অ্যান্ড স্পাইস’এর সুগারে দু’টো আর হাওড়া ব্রীজ পেরিয়ে লোকের ঢল নামে কোলকাতায় আমি কেন পারি না ওই লোকগুলোর সঙ্গে মিশে গিয়ে থেকে যেতে!

আচ্ছা, বেলুনটা কি ওই তারাটার কাছে চলে গেল? যে তারাটাকে আমার খুব নিজের মনে হয়, ইচ্ছে করে খুলে নিয়ে তোকে দিই! যে তারাটাকে নিয়ে গুন্‌গুন্‌ করি...

‘আমার রাতজাগা তারা, তোমার আকাশছোঁয়া বাড়ি
আমি পাই না ছুঁতে তোমায়, আমার একলা লাগে ভারী




Thursday 22 January 2009

বসন্তের কাঁটা

বসন্ত সমাগম হইবার পূর্বেই খড়্গপুর আই আই টির 'বসন্ত উৎসব' পালনের বদভ্যাসটি এই বৎসর পঞ্চাশ বর্ষে পদার্পণ করিল। অবধারিতভাবে ইহার সুবর্ণজয়ন্তীপালন প্রচেষ্টার অতিরঞ্জন মাসাধিককাল যাবৎ চলিতেছিল আজ সেই অতিরঞ্জনের সমাপ্তিদিবস সন্ধ্যা (সত্য সত্যই বসন্ত হইলে বিকাল বলা যাইত) পাঁচ ঘটিকায় উদবোধন অনুষ্ঠান আরম্ভ হইবার কথা কিন্তু এতকাল যাবৎ এই স্থানে বাস করার অভিজ্ঞতাজনিত প্রাপ্ত জ্ঞান হইতে ঘরে বসিয়াই অনুমান করিতে পারি যে এই লেখাটি প্রকাশের সময় উক্ত ঘটনাটি আরম্ভ হইবে হইবে করিতেছে গতবৎসর হইতেই 'বসন্ত উৎসব' পরিচালকমন্ডলীর মধ্যে খ্যাতনামা পাশ্চাত্য বাজনদলের অনুকরণে গড়ে ওঠা হালে পানি না পাওয়া এবং কয়েকটি শ্বেতাঙ্গ সমন্বিত বাজনদল নিয়ে আসার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাইতেছে সেই ধারাকে বজায় রাখিয়া এইবার তাহারা উদবোধন সন্ধ্যায় পরিবেশন করিতেছে 'Led Zeppelin'-এর রেপ্লিকা 'Led Zepplica' আমি আজন্ম ওই রসে বঞ্চিত উহা পান করিয়া আমার কান কটকট এবং মাথা বনবন ব্যতীত আর কিছু হয় না

তবে 'বসন্ত উৎসব'এর নামমহিমা বজায় রাখতে ভারতবর্ষের বিভিন্ন স্থান হইতে অসংখ্য যুবক এবং তদধিক যুবতী ইতিমধ্যেই আসিয়া উপস্থিত আজ সারাদিনে অনেকগুলি নতুন মুখের দর্শন এবং আপাতদৃষ্টিতে যুবতী ও পুরুষের অনুপাতের বৃদ্ধি লক্ষ্যণীয় যদিও সেই অনুপাত বৃদ্ধি কতটা নান্দনিক এবং কতটা নামমাত্র তা নিয়ে বিতর্কের অবকাশ রয়েছে উক্ত বিষয়টিতে আমি নামজাদা বিশেষজ্ঞ নই তবে বসন্ত না আসিলেও বসন্ত উৎসব শরীরে ও মনে নিদারুণ হুল ফুটাইয়া দেয় সে যন্ত্রণা বড়ই বিষণ্ণ ও কাতর করিয়া দেয় তাহার উৎপাত হইতে পলায়ন ব্যতীত দ্বিতীয় কোনো পথ খোলা পাইতেছি না!

একেই ঘুম থেকে উঠেই আজ Spring Fest শুরু ভাবতেই ওটার বাংলা যে 'বসন্ত উৎসব' মনে পড়তেই মনে টান পড়ল, তাতেই এই বেরল! তার ওপরে বসন্ত বসন্ত করতে করতে রবিদাদুর একটা গান মনে পড়ল...

"আহা আজি এ বসন্তে
এত ফুল ফোটে, এত বাঁশি বাজে
এত পাখি গায়...
আহা আজি এ বসন্তে-
সখীর হৃদয় কুসুমকোমল
কার অনাদরে আজি ঝরে যায়
কেন কাছে আস, কেন মিছে হাস
কাছে যে আসেতো...
সে তো আসিতে না চায়!
সুখে আছে যারা
সুখে থাক তারা
সুখের বসন্ত
সুখে হোক সারা..."

মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে মনটাকে ঠোঙ্গা বানিয়ে ঝালমুড়ি খাই!

Saturday 10 January 2009

My First English Informal

At the middle of the night or should I say early morning! Umm... 'middle of the night' sounds more adventurous. Let it be so. It's 4:00 am IST as my lappy shows me and I'm feeling very happy. Sometimes I feel lonely. To be truthful there is some time I don't feel lonely. Well, there are two type of loneliness. One, you enjoy and another you can't take. Today I'm enjoying. And the day I wrote my last post, it was 'another' one.

Any guesses in your mind? Why I'm so happy!
Are you thinking ... Oh! That's a good guess, I mean wild!

At this hour of night, after a 5 hour long rehearsal of Hindi drams when I was returning to my room from common room I remembered something. I remembered something that make my heart smile, that make my life a bit better for tonight, that make my loneliness beautiful! I remembered something that proves the statement wrong, which I made in my last post! That depressed post is not my first post of New Year! My first post was a 'ছড়া', not as a post but in Blogger. I can count it! Ah ha! There is someone who has an objection. Ok. let me put it here also.

হঠাৎ করে আরেকটা
বছর হল শেষ!
থাকতো যদি আর কিছুদিন
ভালো হত বেশ
:(

আট-কে কাল আটকে দিয়ে
এল দু'হাজার নয়,
মিলেমিশে এটাকেও
করবো enjoy!
:) :) :)

এই আমাদের প্রতিজ্ঞা
এই আমাদের আশা...
নতুন দিনে দিলাম তোকে
নতুন ভালোবাসা

Let's make it a Happy New Year!


বাঙ্গালীর ছেলে তো! খুশি হলে আপনিই সাহেবিয়ানা জেগে ওঠে! আফটার অল আই অ্যাম আ বং ড্যুড!
:) :) :)

Wednesday 7 January 2009

অবসাদ

জানি না কি লিখতে চলেছি সকালে উঠে ক্লাসে যাওয়া, ফিরে এসে চান করে খাওয়া, আবার ক্লাসে ছোটা, ফিরে একটু বসতে না বসতেই ডিনারের সময় হয়ে যাওয়া... তারপরে পড়ব না কি করব ঠিক করতে করতেই আবার বাধ্যতামূলক শুয়ে পড়া কিরকম একটা ধরাবাঁধা ছকের মধ্যে জীবনটা আটকে গেছে! আর এই ছক জিনিসটাকেই এড়িয়ে যেতে চেয়েছি সবসময় যতই চেষ্টা করি ছাড়াতে ততই আরো জড়িয়ে যাই রুমমেটের ল্যাপটপে অমিতাভ বচ্চন একটা বারের মধ্যে কয়েকটা লোককে বেধড়ক পিটিয়ে যাচ্ছে সেটা দেখতে দেখতেই মনে পড়ল এক সপ্তাহের ওপর হয়ে গেল আমি কোনো সিনেমা দেখিনি!

Matlab, simulation, BJT, MOS... এইসবের ফাঁকে কোন দিক দিয়ে নতুন আরেকটা বছর চলে এলো! এমনভাবে এল যে আর পাঁচটা দিনের থেকে ওই দিনটাকে এবারেও আলাদা করতে পারলাম না আর এতটাই নিষ্ক্রিয় লাগছে যে বছরের প্রথম লেখাটাই এরকম অবসন্ন, বিষণ্ণ হয়ে গেল একটা কাজের কথা মনে পড়েছে! একটা ফোন করতে হবে ভালোই হল এটাকে কোনো একটা বাহানায় শেষ তো করা যাচ্ছে